উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইপসা’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কার্যক্রম উদ্বোধন

0
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা’র উদ্যোগে ও সলিডার সুইস’র সহায়তায় কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প নম্বর ৯ এলাকায় বৃক্ষ রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে বক্তারা বলেছেন, বৃক্ষ ও পরিবেশের মধ্যে একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমরা কোনো কারণ ছাড়াই অথবা সামান্য কারণ দেখিয়ে বন উজাড় করে ফেলি। একটা দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইপসা’র বৃক্ষরোপন উদ্বোধনের উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়ার সহকারি সচিব ও ক্যাম্প-ইন-চার্জ (সিআইসি) মোঃ তানজিম । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সলিডার সুইস’র কান্ট্রি ডিরেক্টর আমান উল্লাহ, ইপসা’র হেড অব রোহিঙ্গা রেসপন্স ও সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সলিডার সুইস’র লাইভলিহুড কোঅর্ডিনেটর আনারুল হক, ইপসা’র রোহিঙ্গা রেসপন্স প্রোগ্রামের কোঅর্ডিনেটর যীশু বড়ুয়া। সভায় বৃক্ষ রোপন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারি মোস্তাক আহমেদ।
বক্তারা বলেন, বৃক্ষ ও পরিবেশের মধ্যে একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমরা কোনো কারণ ছাড়াই অথবা সামান্য কারণ দেখিয়ে বন উজাড় করে ফেলি। একটা দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্ষ শুধু আমাদের অক্সিজেন দেয় না, আমাদের জীবন-যাপন প্রণালীর প্রতি মুহুর্তে বৃক্ষের অবদান অনস্বীকার্য ও অতুলনীয়। বৃক্ষ নিধনের ফলে দেশে বজ্রপাত, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। তাই ইচ্ছেমতো গাছ কাটা ও বনভূমি উজাড় করা ঠিক নয়। বনাঞ্চল না থাকলে প্রাকৃতিক পরিবেশ হয়ে উঠত উষ্ণ, পৃথিবী হয়ে উঠত মরুভূমি এবং মানুষের অস্তিত্ব হতো বিপন্ন। প্রকৃতি ও পরিবেশরক্ষায় বৃক্ষরোপনের বিকল্প নেই। মানুষের চাহিদার কারণে দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে অরণ্য উচ্ছেদ। যার কারণে প্রকৃতি ভারসাম্য হারাচ্ছে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য দূষণমুক্ত সুস্থ পরিবেশ একান্ত প্রয়োজন। দূষণমুক্ত সুস্থ পরিবেশ গঠনে বৃক্ষরোপণ ও বনসংরক্ষনের ভূমিকা অন্যতম। জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (এফডিএমএন) বা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়ার কারণে উখিয়া ও টকনাফ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষ নিধন হয়েছে। এখন এই অঞ্চলে আমাদেরকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা থেকে রক্ষার জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষ রোপন করতে হবে। পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপনের মধ্যদিয়ে অগ্নিকান্ডে বৃক্ষের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া এবং বন্যা ও পাহাড়ধসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব।
উল্লেখ্য,  ইপসা সলিডার সুইস’র সহযোগিতায় উক্ত ক্যাম্পসমূহে ৬ হাজার বৃক্ষ রোপন করেছেন এবং এ বছর প্রায় ১৬ হাজার বৃক্ষ রোপনের পরিকল্পনা রোপন এবং রোপনের পর রোপিত বৃক্ষের পরিচর্যা করার পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। এ বর্ষাকালীন সময়ের মধ্যে উক্ত বৃক্ষ রোপন কার্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত করার বিষয়ে ইপসা’র প্রতিনিধিরা সভায় পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং এ বিষয়ে উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় উক্ত ক্যাম্পে কর্মরত আইওএম’র প্রতিনিধি, ডাব্লিউএফপি প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন। সভায় ইপসা’র এমএমটি অফিসার নোবেল বড়ুয়া, মিল অফিসার সনৎ মুখার্যী, ও শামীম পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।
Share.

Leave A Reply